Logo
EN
Logo
×

জরুরি খাদ্যসহায়তা ও পুষ্টি

আল-খায়ের ফাউন্ডেশনের অন্যতম লক্ষ্য সুবিধাবঞ্চিত মানুষের খাদ্য ও পুষ্টি নিশ্চিত করা। যে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে সবচেয়ে বিপদগ্রস্ত হয় সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষ। এ কারণে যখনই বন্যা, ঘূর্ণিঝড় বা জলচ্ছ্বাসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এসেছে আল-খায়ের ফাউন্ডেশন নিরন্ন মানুষের কাছে খাদ্যসহায়তা নিয়ে ছুটে গেছে। দরিদ্র মানুষ যেন দুবেলা খেতে পায়, তা নিশ্চিতে খাদ্যসহায়তা দেওয়া হয় এই কর্মসূচির আওতায়। দুর্গতদের পুষ্টি নিশ্চিতে খাদ্যসামগ্রী তালিকায় রাখা হয়ে থাকে চাল, ডাল, আলু, গুঁড়োদুধ, ডিম, চিনি, লবণ ও তেল ইত্যাদি। 

প্রয়োজন মুহূর্তে দুর্গতদের অন্তত তিন সপ্তাহর খাদ্য ও পুষ্টি নিশ্চিত করে এই কর্মসূচি। 

সুপেয় পানির সংস্থান

আল-খায়ের ফাউন্ডেশন দেশব্যাপী নিরাপদ পানি সরবরাহের জন্য নিরলসভাবে কাজ করছে। ২০২২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সংস্থাটি কুষ্টিয়া, লালমনিরহাট, রাজবাড়ি, মাগুরা, কক্সবাজার, খুলনা, গোপালগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জে বিভিন্ন স্থানে নিরাপদ পানি বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি সুপেয় পানির প্রাপ্তি নিশ্চিতে কাজ করেছে। লক্ষ্য পুরণে এ সময় দেশের প্রত্যন্ত এলাকা ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মাঝে সর্বমোট ৮৭টি গভীর নলকূপ এবং ৮৯৩টি অগভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়। প্রতিটি গভীর ও অগভীর নলকূপ পাবলিক প্লেসে স্থাপন করায় বিগত ৩ বছরে অন্তত ১১,১০৫ পরিবারের সুপেয় পানির প্রাপ্তি নিশ্চিত করেছে আল-খায়ের ফাউন্ডেশন।

গৃহনির্মাণ

দিন শেষ নিজের ঘরে ফিরতে পারা একজন মানুষের আর্থসামাজিক নিরপত্তার সবচেয়ে বড় প্রতীক। এ ক্ষেত্রে সরকারের উদ্যোগ রয়েছে। তারপরও, নিজেদের অবস্থানে থেকে সহৃদয় দাতাদের সহায়তায় সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য গৃহনির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করে চলেছে আল-খায়ের ফাউন্ডেশন। জলবায়ু পরিবর্তনসহ প্রকৃতিক বা অর্থনৈতিক দুর্বিপাকে যেসব পরিবার নিজ বাড়ি তৈরির সক্ষমতা হারিয়েছে ফাউন্টেশন তাদের মাথার উপর অন্তত  একটি ছাউনি তৈরি করে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় ২০২২, ২০২৩ এবং ২০২৪ সালে সর্বমোট ৬৯টি দরিদ্র ও ছিন্নমূল পরিবারের বাসস্থান তৈরি করে দেওয়া হয়। বাড়িগুলো রংপুর, মুন্সীগঞ্জ, মাদারীপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ, ফেনী, নোয়াখালী, বরগুনা, খুলনা ও কক্সবাজার- এই ১২টি জেলার ৬৯টি পরিবারকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। 

বন্যার্তদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে শুধু ঘুর্ণিঝড় বা জলচ্ছ্বাসের সংখ্যাই বাড়েনি, সেই সঙ্গে বেড়েছে শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষার তীব্রতা ও আকষ্মিকতা। বেড়েছে বন্যা, হঠাৎ-বন্যা ও শৈত্যপ্রবাহের মাত্রা। যা সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে আরও বেশি অসহায় করে তুলেছে। এই অসহায় প্রান্তিক মানুষের পাশে দাঁড়াতে উদ্যোগ নেয় আল-খায়ের ফাউন্ডেশন-

  • বন্যার্তদের খাদ্য সহায়তা: এই ব্যবস্থাপনায় ২০২২,’২৩ ও ’২৪ সালে বন্যা ও ঘুর্ণিঝড়সহ বিভিন্ন দুর্যোগে ৪,০০০ প্যাকেট খাদ্যসামগ্রী, ৫,০০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করে আল-খায়ের ফাউন্ডেশন। সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ সুনামগঞ্জ, খুলনা ও বরগুনায় এই খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। যা ওইসব দুর্যোগ এলাকার ৯ হাজার পরিবারের ৪৫ হাজার মানুষের ৩ সপ্তাহর খাবার সংস্থান করেছে।   
  • ঘুর্ণিঝড় আক্রন্তদের সহায়তা: জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বঙ্গোপসাগরে ঘনঘন নিম্নচাপ এবং তা থেকে তৈরি হওয়া ঘুর্ণিঝড় ও জলচ্ছ্বাস মহাসঙ্কটে ফেলে দিয়েছে বাংলাদেশের দক্ষিণের ৪৮৩ কিলোমিটার উপকূলসীমার মানুষর জীবনযাপন। পেশাগত ক্ষতির পাশাপাশি ঘূর্ণিঝড় ও জলচ্ছ্বাসে ঘর-বাড়িসহ পুরো জনপদের অবকাঠমোগত ক্ষয়ক্ষতি বিপন্ন করে তুলেছে উপকূলের মানুষকে। দিন এনে দিন খাওয়া মানুষ ভিটেমাটি ছেড়ে অভিবাসন করতে বাধ্য হচ্ছে । এদের সহায়তায় উদ্যোগ নিয়েছে আল-খায়ের ফাউন্ডেশন। সংস্থার পক্ষ থেকে ঘুর্ণিঝড় ক্ষতিগ্রস্তদের খাদ্যসহায়তা ছাড়ও ভেঙে যাওয়া ঘর-বাড়ি মেরামতের জন্য ২০০ বান্ডেল টিন দেওয়া হয়।  

রমজানে বিশেষ উদ্যোগ

 প্রতিষ্ঠার পর থেকে ফাউন্ডেশন মুসলিম উম্মাহর বিশেষ এই মাসে দরিদ্র মানুষকে পর্যাপ্ত সহযোগিতা প্রদানের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে ৷ রমজান মাসের বিশেষ  এই কার্যক্রমকে তিনটি ভাগে সম্পন্ন করেছে- খাদ্যসামগ্রী প্রদান, ইফতার সরবরাহ এবং ঈদ উপহার বিতরণ।

  • খাদ্যসামগ্রী

ফাউন্ডেশনের খাদ্যসামগ্রী বিতরণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন গ্রোসারি পণ্যকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। রমজান মাসের শুরুতে দরিদ্রদের মাঝে এই খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। প্রতি বছর রমজানে অন্তত ৬ হাজার অতিদরিদ্র পরিবারের সারা মাসের খাদ্যসামগ্রী নিশ্চিত করে আল-খায়ের ফাউন্ডেশন।

  • ইফতার

রমজানে দারিদ্রপীড়িত মানুষ সারাদিনের রোজা শেষে  ঠিক মতো ইফতার করতে পারে, সেই দিকে দৃষ্টি রেখে আল-খায়ের ফাউন্ডেশন মাসব্যাপী ইফতার বিতরণ কর্মসূচি নিয়ে থাকে। 

  • ঈদ উপহার

মাসব্যাপী রোজা শেষে আসে খুশির ঈদ। সেই খুশিতে সবাই যেন অংশ নিতে পারে সেই লক্ষ্যে আল-খায়ের ফাউন্ডেশন সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলোতে  ঈদ উপহারসামগ্রী বিতরণ করে থাকে।  প্রতিবছর ঈদের ২ থেকে ৩ দিন আগে উপহারসামগ্রী বিতরণ করা হয়। উপহার প্যাকেট সাজানো হয় সেমাই, গুঁড়োদুধ, চিনি, পোলাওচাল, মসলা, নতুন শাড়ি, লুঙ্গি ও আতর দিয়ে। শিশুর মাঝে বিতরণ করা হয় বিশেষ ঈদ উপহার।

  •  কোরবানি

প্রতিবছর আল-খায়ের ফাউন্ডেশনের দাতারা সম্মিলিতভাবে কোরবানির আয়োজন করে থাকেন। তাদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে দরিদ্র ও অভাবগ্রস্ত পরিবারে কোরবানির গোশত বিতরণ করা হয়। আল-খায়ের ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবী ও কর্মীরা এ সময় মাঠ পর্যায়ে বিতরণের কাজ সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন করার জন্য কাজ করে। দরিদ্র, বিধবা ও নিঃসন্তান পরিবারকে সহযোগীতার বিষয়টিকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে কাজটি সম্পন্ন করা হয়। 

মসজিদ নির্মাণ কার্যক্রম

দেশের বিভিন্ন স্থানে মসজিদ নির্মাণ আল-খায়ের ফাউন্ডেশনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বলে বিবেচিত। মসজিদ মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের পরম আশ্রস্থল। ধর্মঅন্তপ্রাণ মানুষ যেন তাদের ইবাদত বা ধর্মচর্চা সুষ্ঠুভাবে পালন করতে পারে সেই জন্য আল-খায়ের ফাউন্ডেশন প্রতিবছর মসজিদ নির্মাণের প্রকল্প নিয়ে থাকে। 

ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বিগত তিন বছরে অর্থাৎ ২০২২, ’২৩ ও ’২৪ সালে ময়মনসিংহ, কক্সবাজার, বরিশাল, সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভিবাজার, হবিগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও, টাঙ্গাইল, চট্টগ্রাম, গাইবান্ধা মাদারিপুর ও কুমিল্লায় সর্বমোট ৪১টি মসজিদ নির্মাণ করা হয়। 

জীবন-জীবিকা

প্রান্তিক মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে আল-খায়ের ফাউন্ডেশন। এইসব মানুষের জীবনযাত্রায় গুণগত পরিবর্তন আনতে সংস্থার পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে নানামুখী কর্মসূচি- 

  • এতিম ও হাফিজ পৃষ্ঠপোষকতা: অন্য সাধারণ শিশুর মতো এতিম শিশুও যেন বেড়ে ওঠার সমান সুযোগ পায় সে লক্ষ্যে প্রকল্পটি পরিচালিত হয়। সেইসঙ্গে যে দরিদ্র শিশু আল্লাহর পবিত্র কোরআন হেফজো করায় রত আছে তাদেরকেও কর্মসূচিতে যুক্ত করা হয়েছে। কর্মসূচির আওতায় আল-খায়ের ফাউন্ডেশন ৬ থেকে ১৪ বছর বয়সী এতিম ও হাফেজ শিক্ষার্থীদের খাদ্য, শিক্ষা উপকরণ, স্বাস্থ্যসেবা, পোশাক ইত্যাদি মৌলিক চাহিদা নিশ্চিত করাসহ আনুসাঙ্গিক প্রয়োজন মিটিয়ে থাকে। এর মাধ্যমে ২০২২, ’২৩ ও ’২৪ সালে মোট ২,৩৪৫ জন এতিম শিশু সহায়তা পায়। কর্মসূচিটি কাউন্দিয়া, সংযোগ, আগাইঝরা, কক্সবাজার, মনপুরা, বরিশাল, ভালুকা, রাজনগর, কামলগঞ্জ, কুলাউড়া, শায়েস্তাগঞ্জ, হবিগঞ্জ সদর, নান্দাইল, রাঙ্গুনিয়া, সিলেট সদর, গোয়াইনঘাট, বালাগঞ্জ, ফেনী সদর, রাজবাড়ি সদর, পটুয়াখালী সদর, তাহিরপুর, বেতাগি, শিবগঞ্জ, তালা, বউফল, কালুখালী ও কাশিয়ানি, সাভার ও ঢাকায় চলমান রয়েছে। 
  • অন্ধ হাফেজ: ২০২৩ সালে আল-খায়ের ফাউন্ডেশন শিক্ষারত অন্ধ হাফেজদের জন্য পৃথক সহায়তা কার্যক্রম গ্রহন করে। কর্মসূচিতে তাদের শিক্ষা উপকরণ, খাদ্য সরবরাহ ও আর্থিক প্রণোদনা নিশ্চিত করা হয়েছে। ২০২৩ ও ২০২৪ সালে ঢাকা ও কক্সবাজারের ৫০ জন্ করে মোট ১০০জন শিক্ষারত অন্ধ হাফেজকে নিয়ে নতুন এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ভবিষ্যতে কার্যক্রমের পরিসর আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। 
  • হুইলচেয়ার বিতরণ: চলাচলে অক্ষম ব্যক্তিদের জীবনের প্রতিবন্ধকতা কমিয়ে আনতে আল-খায়ের ফাউন্ডেশন হুইলচেয়ার বিতরণ করে থাকে। কর্মসূচির আওতায় বিগত ৩ বছরে চলাচলে অক্ষম ২০০ অসহায় ব্যক্তির মাঝ ২০০ হুইল চেয়ার বিতরণ করা হয়।
  • সেলাইমেশিন বিতরণ: বিশেষত গ্রামীণ, নিরক্ষর বা অল্প শিক্ষিত নারীকে অর্থনৈতিকভাবে সাবলম্বী করতে আল-খায়ের ফাউন্ডেশন এই কর্মসূচি পরিচালনা করে থাকে। কর্মসূচি থেকে বিগত ৩ বছরে সর্বমোট ২০০টি সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়।
  • যৌতুকবিহীন বিয়ে: আল-খায়ের ফাউন্ডেশন জীবনমান উন্নয়নে নানামুখী প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় উদ্যোগ নেওয়া হয় যৌতুকবিহীন বিয়ের। ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বিয়ের সার্বিক ব্যয়ভার নির্বাহ করে ২০২২ ও ২০২৩ সালে সিলেট ও রংপুরে ৬০ জন কেরে ১২০ জন সুবিধাবঞ্চিত বিবাহ উপযুক্ত ছেলে-মেয়ের আড়ম্বরপুর্ণ বিয়ের আয়োজন করা হয়। আয়োজনে কনে ও বর পক্ষের পরিবারের সদস্যরা ছাড়াও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে নবদম্পতিদের দোয়া-আশির্বাদ করেন।

বিয়েতে নতুন দম্পতির সংসার গোছানোর জন্য সংস্থার পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি এবং জীবিকার নির্বাহের জন্য প্রতিটি দম্পতিকে ১টি করে রিক্স/ভ্যান, সেলাইমেশিন ও নগদ অর্থ প্রদান করা হয়। 

শিক্ষা

শিক্ষা বিস্তারে কাজ করতে চায় আল-খায়ের ফাউন্ডেশন। এই লক্ষ্যে কিছুটা স্বল্প পরিসরে কাজ শুরু করেছে সংস্থা। ২০২৩ সাল থেকে আল খায়ের ফাউন্ডেশন পাবনায় খোরশেদ আলি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করে। যেখানে ৮০জন সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে।

স্বাস্থ্যসেবা

সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের লক্ষ্যে আল-খায়ের ফাউন্ডেশন স্বা্স্থ্যসেবা কর্মসূচি বাস্থবায়ন করে চলেছে। এর আওতায় পরিচালিত মেডিকেল ক্যাম্প ও চক্ষু শিবির থেকে দরিদ্রমানুষ বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, ছানি অপারেশ প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চশমা পেয়ে থাকে।   

  • চোখের ছানি অপারেশন: বাংলাদেশে অসংখ্য মানুষকে চোখের সমস্যাজনিত কারণে চশমা বা অন্য চিকিৎসাসেবা নিতে হয়। বিবিসির এক প্রতিবেদন অনুসারে বাংলাদেশে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মানুষের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৯ লাখ আর মাঝারি থেকে তীব্র চোখের সমস্যায় ভোগেন প্রায় ৭৫ লাখ মানুষ। দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের অনেকেই নানা ধরণের হয়রানির শিকার হন। এই দৃষ্টি প্রতিবন্ধকতার অন্যমত কারণ চোখের ছানি। ছানি অপারেশন ব্যয়বহুল হওয়ায় প্রত্যন্ত ও গ্রামীন জনপদের নিম্ন আয়ের মানুষ চিকিৎসাসেবা না নিয়ে অন্ধত্বকে বরণ করতে বাধ্য হয়। অভাবগ্রস্ত মানুষের চোখের আলো ফিরিয়ে দেওয়ার মহান ব্রত নিয়ে আল-খায়ের ফাউন্ডেশন প্রত্যন্ত ও গ্রামীন পর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছে। সংস্থা দেশের বিভিন্ন স্থানে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসাসেবা ক্যাম্প ও ছানি অপারেশন প্রকল্পটি পরিচালনা করে থাকে। ঢাকা, ময়মনসিংহ, পটুয়াখালী, মৌলভিবাজারসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ক্যাম্প পরিচালনা করে এখন পর্যন্ত ১২,২৪৩ জনকে বিনামূল্যে চোখের চিকিৎসাসেবা, ওষুধ, চশমা এবং ছানি রোগিদের আপারেশনের ব্যবস্থা করেছে।  
  • স্বাস্থ্যসেবা ক্যাম্প: বাংলাদেশে ধর্মীয় সভা বা ওয়াজ মহফিলে প্রচুর মানুষের সমাগম ঘটে। আল-খায়ের ফাউন্ডেশন সেই সভাগুলোকে কেন্দ্র করে মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করে সভায় আসা গ্রামীণ মানুষের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে এবং একই সঙ্গে খাবারের ব্যবস্থা করে থাকে। মহফিলে মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করে আল-খায়ের ফাউন্ডেশন বিগত ৩ বছরে প্রায় ১,০০০ মানুষকে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রদান এবং ৩০,০০০ মানুষের এক বেলা খাবারের ব্যবস্থা করে।  
  • ওয়ান পাউন্ড হাসপাতাল: ঢাকা-সিলেট হাইওয়ে থেকে মাত্র ৪ কিলোমিটার দূরত্বে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় নির্মাণ করা হচ্ছে ওয়ান পাউন্ড জেনারেল হাসপাতাল। ২০২৩ সালে পাঁচতলা হাসপাতাল ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। আশা করা হচ্ছে ২০২৫ সালের প্রথমার্ধ থেকে সর্বসাধারণ হাসপাতলটি থেকে চিকিৎসাসেবা নিতে পারবে বলে। হাসপাতালটি চালু হলে একই সঙ্গে সিলেট, মৌলভীবাজর ও সুনামগঞ্জের মানুষ খুব সহজেই চিকিৎসাসেবা নিতে সক্ষম হবে।

রোহিঙ্গা সহায়তা

কক্সবাজারে রোহিঙ্গা রিফিউজি ক্যাম্প স্থাপনের সূচনা থেকে আল-খায়ের ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ মিয়ানমার থেকে আগত উদ্বাস্তু রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর আবাসন, খাদ্য, বস্ত্র ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা নিশ্চিতে কাজ করেছে। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে Refugee Relief and Repatriation Commissioner(RRRC)-এর মাধ্যমে ২৪ ঘন্টার মধ্যে সহায়তা দিয়ে আসছে আল-খায়ের ফাউন্ডেশন। কর্মএলাকা কুতুপালং ক্যাম্প ওয়ান ওয়েস্টে-এ হেলথ পোস্ট স্থাপন ও ওয়াশ কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং খাদ্য সহায়তা প্রদান করে ১৫ হাজার ক্যাম্পবাসীর জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে। 

  • রোহিঙ্গা স্বাস্থ্যসেবা: কক্সবাজারের বালুখালি রোহিঙ্গা রিফিউজি ক্যাম্পে মিয়ানমার থেকে আগত উদ্বাস্তু রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ২০১৭ সাল থেকে আল-খায়ের ফাউন্ডেশন হেলথ পোস্ট স্থাপন করে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছে। মূলত ছোঁয়াচে রোগের বিস্তার ও প্রকোপ ঠেকাতে সংস্থা বিনামুল্যে ক্যাম্পে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম শুরু করে। হেলথ পোস্ট থেকে ২০২২, ২০২৩ ও ২০২৪ সালে প্রায় ৭০,০০০ রোহিঙ্গাকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেয় আল-খায়ের ফাউন্ডেশন। 
  • ওয়াশ কর্মসূচি: আল-খায়ের ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ এর সরাসরি অর্থায়নে ২০১৭ সালের রোহিঙ্গা শরনার্থী প্রবেশের পর থেকে কক্সবাজরের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ওয়াশ কর্মসূচি বাস্তবায়ন হয়ে আসছে। গভীর নলকুপ স্থাপন, টয়লেট নির্মাণ, ওয়াশরুম নির্মাণ, পয়নিষ্কাশন ড্রেন তৈরি, ওয়াটার পিউরিফায়িং পাম্প স্থাপন, সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট, হাইজিন বিষয়ে জনসচেতনতা এবং কমিউনিটির চাহিদা অনুসারে হাইজিন সামগ্রী বিতরণসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে আল-খায়ের ফাউন্ডেশন।

    ১. নিরাপদ পানি সরবরাহ: আল খায়ের ফাউন্ডেশন বিগত তিন বছরে উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্প ওয়ান ওয়েস্টে এলাকায় নদীর পানি পিউরিফাই করে ১০ হাজার মানুষের নিরাপদ খাবার পানি পাইপ লাইনের মাধ্যমে দুইবেলা সরবরাহ করা করে আসছে । এছাড়া, আরও ৫৭টি গভীর ও অগভীর নলকুপের পরিচালনা করে প্রায় ১৫ হাজার ক্যাম্পবাসীর প্রতিদিন দুইবেলায় ২০লিটার করে নিরাপদ খাবার পানি সরবরাহ নিশ্চিত করেছে।

    ২. টয়লেট ও ওয়াশরুম মেরামত ও অপারেশন: আল-খায়ের ফাউন্ডেশন নিজেদের স্থাপিত প্রায় ১০০ টয়লেট নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও ময়লা অপসারণের মাধ্যমে টয়লেটগুলি সচল রেখেছে। যাতে কর্মএলাকার রোহিঙ্গা পরিবার প্রতিদিন নিরাপদ টযলেট ব্যবহার করতে পারে। অনুরূপভাবে ওয়াশরুমগুলোও নিয়মিত মেরামত ও পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা।

    ৩. সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট কার্যক্রম: যেহেতু ক্যাম্পে অল্প জায়গায় অনেক মানুষ বসবাস করে, সে কারণে তাদের রোগমুক্ত রাখতে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি নিশ্চিত করতে আল-খায়ের ফাউন্ডেশন কর্ম এলাকায় একটি কম্প্রিহেনসিভ সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠা করেছে। সেখানে প্রতিটি পরিবারকে দুটি করে ঝুড়ি সরবরাহ করা হয়েছে, একটি লাল ও একটি সবুজ। একটাতে অর্গানিক আরেকটাতে ননঅর্গানিক ময়লা সংরক্ষণ করা হয়। আমাদের সেচ্ছাসেবকরা প্রতিদিন পরিবার গুলো থেকে ময়লা সংগ্রহ করে এবং পৃথক করে ননঅর্গানিক ময়লা নির্দষ্ট জায়গায় ডাম্পিং করে থাকে। অন্যদিকে অর্গানিক ময়লা দিয়ে কম্পোস্ট সার তৈরি করা হয়। সেই সার পরে উপকারভোগীদের মধ্যে সরবরাহ করা হয়। একই সঙ্গে নিয়মিত ড্রেনগুলোকেও পরিস্কার করা হয়।

    ৪. স্বাস্থ্যবিধি প্রচার: আমাদের দক্ষ কর্মীবাহিনী দিয়ে নিয়মিত উঠান বৈঠকের মাধমে হাইজিন প্রমোশন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে আসছি, সেখানে গুরুত্ব দেওয়া হয়- ১. মানুসের আচরনগত পরিবর্তন, ২. সঠিক অনুশীলন, ৩. সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, ৪. মিনিস্টারেল হাইজিন ম্যানেজমেন্ট, ৫. জেন্ডার সেনসিটিভিটি দৃষ্টিভঙ্গি, ৬.উন্মুক্ত স্থানে মলত্যাগ। বৈঠকগুলিতে নারী, পুরুষ, কিশোর, কিশোরীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়।

    ৫. উপকারভোগীদের সম্পৃক্ততা নিশ্চিতকরণ কর্মসূচি: আমাদের কর্মসূচিতে উপকারভোগীদের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করার জন্য আমরা বিভিন্ন কমিটি তৈরী করেছি যেমন, ইউজার গ্রুপ, ওয়াশ কমিটি, ব্লক কমিটি। এই কমিটিগুলোকে  প্রশিক্ষণ দিয়ে দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয় এবং নিয়মিত তদারকি করা হয় ।
  • জরুরি খাদ্য সহায়তা: ২০২৩ ও ’২৪ সালে বালুখালী ক্যাম্পে দুই দফায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রোহিঙ্গাদের খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা রোধে আল-খায়ের ফাউন্ডেশন ১,২০০ পরিবারে খাদ্যসামগ্রী সরবরাহ করে। এছাড়া, পবিত্র রমজান উপলক্ষ্যে বিগত তিন বছরে ৩৬২৫ পরিবারকে বিশেষ খাদ্যসহায়তা দেওয়া হয়। 

আমরা দেখেছি উপরোক্ত কর্মসূচি বাস্তবায়নের ফলে কর্মএলাকায় স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তসহ জীবনমানের উন্নয়ন ঘটেছে।  অন্তর্ভুক্তিমুলক কার্যকরী টয়লেট ব্যাবস্থাপনায় খোলা জায়গায় টয়লেট করা বন্ধ এবং গোসলের সুবিধা বৃদ্ধি পেয়েছে, জীবানুমুক্ত হতে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া বৃদ্ধি পেয়েছে, পানি বাহিত রোগ কমেছে এবং সর্বপরি কর্মসূচি বাস্তবায়নে উপকারভোগীদের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি পেয়েছে।

শীতবস্ত্র বিতরণ

কোরবানিতে বিশেষ উদ্যোগ

অনুসরণ করুন

ssl banner